নগরকান্দাবাসীর কাছে একজন মানবিক পুলিশ অফিসার ওসি শেখ সোহেল রানা

  • বোরহান আনিস
    ::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

আইনকে সমুন্নত রেখে যার সমস্ত ধ্যান ধারনা জুড়ে রয়েছে মানুষের কল্যাণ । পুলিশের গতানিকতা পরিহার করে পুলিশী সেবা জনগনের দ্বার-দ্বারে পৌঁছে দেয়ায় ইতি মধ্যে তিনি নগরকান্দাবাসীর কাছে একজন মানবিক পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোঃ সোহেল রানার পুলিশের চাকুরী কালীন অভিজ্ঞতা, মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ, মমত্ববোধ, আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে কথা হয় তার সাথে। তিনি এই প্রতিবেদকের নিকট খোলামেলা ভাবেই তুলে ধরেন জীবনের কিছু কথা।

মেধাবি ছাত্র সোহেল রানা একজন বিচারক হওয়ার বাসনা নিয়ে ছোটবেলা থেকেই নিজেকে তৈরী করছিলেন। স্কুল কলেজ পর্যায়ে প্রতিটি স্তরেই তিনি মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। পড়েছেন আইন বিষয়েও। সর্বদা মনের ভিতর লালন করতেন বড় হয়ে একজন ন্যায় বিচারক হবেন। পড়াশোনা শেষ করে ছোটবেলার বিচারক হওয়ার সুপ্ত বাসনাকে বাস্তবে রুপ দিতে তিনি দুইবার বিসিএস পরীক্ষায়ও অংশ গ্রহন করেন।

২০০৩ সালে তিনি অনেকটা খেলার ছলেই পুলিশের এসআই পদে পরীক্ষা দেন এবং সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে কৃতিত্বের সাথে নির্বাচিত হন। সফলতার সাথে ট্রেনিং শেষ করে ২০০৪ সালে পিএসআই হিসাবে খুলনার রুপসা থানায় যোগদান করেন। তারপর থেকেই তিনি জনগনের সেবার ব্রত এবং জনগনের জানমালের নিরাপত্তা কাধে নিয়ে অবিচল থেকেছেন প্রতিটি দায়িত্বে। তিনি যেখানেই চাকুরী করেছেন সেখানেই পেয়েছেন মানুষের ভালবাসা। পেয়েছেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি। সর্বক্ষেত্রেই তিনি পরিচিতি পেয়েছেন মানবিক পুলিশ হিসেবে।

ইন্সপেক্টর অব পুলিশ হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে তিনি যোগদেন ঢাকার দোহার থানায়। ওসি তদন্ত হিসেবে তিনি শুরু করেন চাকুরীর দ্বিতীয় অধ্যায়। পরবর্তীতে শেখ মোঃ সোহেল রানা অফিসার ইনচার্জ হিসেবে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানায় যোগদান করেন। পরে তিনি হবিগঞ্জে ওসি ডিবি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর যোগদেন ফরিদপুরের নগরকান্দা থানায়। এ থানায় যোগদানের পর থেকেই পাল্টে যায় থানার দৃশ্যপট। বেড়ে যায় থানায় আগত আইনি সেবা প্রত্যাশীদের সেবার মান। থানার সকল কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের কাছে হয়ে উঠেন একজন প্রকৃত অভিভাবক হিসেবে।
জনগনের অতন্ত্র প্রহরী শেখ মোঃ সোহেল রানা করোনা কালের এই পরিস্থিতিতেও হয়ে ওঠেন একজন করোনা যোদ্ধা হিসেবে। এই মহামারীতে তিনি নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে দিন রাত পরিশ্রম করেছেন এলাকার গরীব অসহায়দের কল্যাণে। হাত বাড়িয়েছেন সহযোগিতার। যেখানে করোনা শনাক্তের খবর পেয়েছেন, ছুটে গিয়েছেন সেখানে। হাত বাড়িয়েছেন মানবিকতার।

এই মানবিক পুলিশ অফিসারের বাড়ী গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার বেতগ্রামের। তিনি এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। পিতা মরহুম শেখ শামসুল হক ছিলেন একজন ব্যবসায়ী, ২ ভাই ৩ বোনের মধ্যে সোহেল রানা সবার ছোট। ছেলে বেলা থেকেই ছিলেন দুরন্তমনা ও বেশ চঞ্চল স্বভাবের, তিনি ছাত্র জীবনে ছিলেন বেশ মেধাবী।

ব্যক্তি জীবনে তিনি বিবাহিত এবং ২ কন্যা সন্তানের জনক ।
গোপালগঞ্জের এস এম মডেল গভঃ হাইস্কুল থেকে ১৯৯৪ সালে এসএসসি, ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ থেকে এইচ এস সি, পরে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাষ্টার্স শেষ করেন।
সরকারী চাকুরীর বিচিত্র অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পুলিশ পরিদর্শক সোহেল রানা নগরকান্দা থানায় যোগদানের পর থেকেই পাল্টে যেতে থাকে থানার পুরো চিত্র, মনোরম পরিবেশে সাজিয়েছেন থানাটিকে। থানা পুলিশের সেবা জীবনমান উন্নয়ন, উপজেলাকে মাদক মুক্তকরণ, বাল্য বিবাহকে লাল কার্ড, নিয়মিত আইন শৃঙ্খলা মিটিং, দাঙ্গা দমন ও আইন শৃংখলা সমুন্নত রাখতে পুলিশের সেবার মান উন্নয়নসহ কমিউনিটি পুলিশিং শক্তিশালি করতে সফল হয়েছেন শতভাগ।
সততা বিশ্বস্ততা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে অর্জন করেছেন বিভিন্ন সম্মাননা পদক, যার মধ্যে রয়েছে মাদার তেরেসা পদক, সার্ক এ্যাওয়ার্ড ২০১৯, বিপ্লবী জনতা স্টার এ্যাওয়ার্ড সহ একাধিক সম্মাননা পদক ।
এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, দুর্নীতির সাথে আপোষ না করায় আমাকে বার বার বদলি হতে হয়েছে বিভিন্ন স্থানে ।
নগরকান্দা থানার একজন উপ-পুলিশ পরিদর্শক জানান, ওসি সোহেল স্যারের মত একজন কর্মকর্তার অধীনে চাকুরী করাটা ভাগ্যের ব্যাপার।

বর্তমানে সারাদেশের করোনা পরিস্থিতিতে ফ্রন্ট লাইনে থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নির্দেশক্রমে পুলিশ সুপার আলীমুজ্জামান ও সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল)এফ এম মহিউদ্দিন সহায়তায় ইউএনও ও এসিল্যান্ডকে সঙ্গে নিয়ে রাত দিন মানুষের পাশে সেবা ও ত্রাণ সহায়তা নিয়ে হাজির হচ্ছেন প্রতিনিয়ত যা উপজেলা বাসীর মনের গভিরে স্থান করে নিয়েছেন মানবিক ওসি হিসেবে।

তিনি তার ব্যক্তি উদ্যোগে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে ত্রাণ সহায়তাও পৌঁছে দিচ্ছেন।

“তিনি বলেন,  আমি একজন পুলিশ হিসেবে নয়,একজন মানুষ হিসেবে মানুষের সেবা করি”।

তিনি নগরকান্দা থানার মানুষের চোখে একজন সৎ, আদর্শবান, ন্যায়নিষ্ঠ ও গরিবের বন্ধুসুলভ পুলিশ অফিসার হিসেবে বেশ পরিচিত লাভ করেছেন। তার অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ নগরকান্দা উপজেলা এলাকা থেকে জুয়া, মাদক, চাদাঁবাজ, দখলবাজ, ইভটিজার, জঙ্গি ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মুক্ত।
একজন নির্যাতিত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হলো পুলিশ তাই যে কেউ বিনা বাধায় তার সাথে সরাসরি কথা বলতে পারেন। তিনি প্রমান করেছেন- পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ।