সালথায় সবজি বাজারে আগুন’ সাধারন মানুষ বিপাকে

নুরুল ইসলাম: ফরিদপুরের সালথায় সবজি বাজারগুলোতে যেন আগুন লেগেছে। আলু, বেগুন, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচসহ সব পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করা দায় হয়ে পড়েছে সাধারণ ক্রেতাদের। ভোক্তাদের নাগালের বাইরে দাম থাকায় নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে তাদের জীবন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েছেন খেটেখাওয়া দিনমজুর গরিব লোকজন। সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় তিনগুণ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার সদরের প্রধান কাঁচাবাজার, মাঝারদিয়াবাজার, কাগদীবাজার, ময়েনদিয়াবাজার, সোনাপুরবাজার, নকুলহাটীবাজার, বালিয়াগট্টিবাজার, ঠেনঠেনিয়াবাজার ও রসুলপুরবাজারসহ উপজেলার সব কাঁচাবাজারে সবজির দাম আকাশছোঁয়া। বর্তমানে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, আলু ৫০ টাকা, ছোট করলা ৮০ টাকা, মূলা ৫০ টাকা, ঢেঁড়শ ৫০ টাকা, কচু ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, ধনে পাতা ২০০ টাকা, লতি ৪০ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা, ধুন্ধল ৩০ টাকা দরে। চাল কুমড়া প্রতি পিস ৩০-৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁচকলা প্রতি হালি ৩০-৩৫ টাকা, দেশি লেবু ২০ টাকা হালি করে বিক্রি হচ্ছে। এখন সব কাঁচামালের পণ্যের দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

শুক্রবার (১৬অক্টোবর) দুপুরে বালিয়াগট্টিতে বাজার করতে এসে কাঁচামালের অতিরিক্ত দামের কথা শুনে হতাশা প্রকাশ করে দিনমজুর হিরু সেখ বলেন, বর্তমানে ৫০ টাকার নিচে কোনো ধরনের সবজি বাজার থেকে ক্রয় করা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে নাভিশ্বাস উঠছে লোকজনের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েছেন আমাদের মত খেটেখাওয়া অসহায় দিনমজুররা।

বাজারে লাগামহীন দামের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন অভিযান চালালেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ হাসিব সরকার ইত্তেফাককে বলেন, কেজিপ্রতি ৩০ টাকার বেশি কেউ আলু বিক্রি করতে পারবে না। সবজি বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমরা বাজার কমিটির সাথে আলাপ-আলোচনা করেছি। কাঁচাবাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরপর যদি কেউ অতিরিক্ত দামে সবজি বিক্রি করে আমরা অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নিব।